Thursday, December 31, 2020

পর্তুগালের অলিগলি: ৩


৭.
দ্বিতীয় দিন। গ্যাঁট হয়ে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা লেকচার শুনে প্রায় ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। পাশের কারো ধাক্কায় ধড়ফড় করে উঠলাম। পোস্টার সেশনে ছুট দিতে হল। সেখানে গোল আলুর মত কেৎরে থাকার জো নেই। বরং ভুট্টার খই হয়ে ফুটতে হবে। সুতরাং, যত প্রকারে হাত-পা নেড়ে, ঘাড়-মাথা ঝাঁকিয়ে, কথার তুবড়ি ছুটিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেললাম। অতি আগ্রহের বনামে বুড়ো বুড়ো বিজ্ঞ প্রফেসররা মুচকি হাসলো। এতটুকু দমে না গিয়ে শূন্য কলসির মত বাজতেই থাকলাম। অল্প বিদ্যার এমনই তেজ। 

একটা ভয় কাজ করছে আসলে। পর্তুগাল আসার আগে বাজখাঁই তুর্কি সুপারভাইজার ডক্টর ইলদ্রিম হাসতে হাসতে গলায় পোঁচ দেয়ার ভঙ্গী করে ছেড়ে দিয়েছে। রিসার্চের কাজ তুখোড়ভাবে মেলে ধরতে না পারলে এক কোপে কল্লা কেটে নেবে। নিজে না এলেও কনফারেন্সের আসরে তার অনেক ‘কান’ আছে। ভাল-মন্দ সব সে শুনতে পায়। ভজঘট পাকিয়ে মিউনিখ ফিরে গেলে গর্দান সে নিতেও পারে। আতঙ্ক আর ত্রাসের অপর নাম ডক্টর আলী ইলদ্রিমের অসাধ্য কিছুই নেই। 

যাহোক, সব ভালোয় ভালোয় সেরে হোটেলে ফিরে গেলাম বিকাল নাগাদ। তৈরি হয়ে নেবার তাড়া আছে। রাতে গালা ডিনার। জাঁকজমক পার্টি হবে। সেখানে ছাত্র-প্রফেসর সবার সেজেগুজে আসার রেওয়াজ। গতবার ডক্টর মেলানি ক্যোনিগসহফ তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ঘেরওয়ালা গাউন পরে। গম্ভীর, রাশভারী প্রফেসর আইকেলবার্গও নাকি চরম স্যুটেড-বুটেড হয়ে নারীমহলের কলিজা কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ডিস্কো বাতি জ্বেলে ম্যারম্যারে কনফারেন্স হল বদলে গিয়েছিল ঝলমলে বল রুমে। সে এক দেখার মত দৃশ্য। 

গল্পগুলো মিউনিখে বসে ভারতীয় বান্ধবী বার্খার কাছ থেকে শুনেছিলাম। বার্খা পোস্টডক্টরাল ফেলো। গতবারের কনফারেন্সে সে এসেছিল। সেবার কেন যে স্যুটকেসে ঢুকিয়ে একখানা শাড়ি নিয়ে যায় নি-এই আফসোসের তার শেষ নেই। বার্খার জবরদস্তিতে ব্যাকপ্যাকে একখানা নীল শাড়ি পুরে এনেছি। সেটা এখন হোটেলের সফেদ বিছানায় এলোমেলো পরে আছে। এই তেরোহাতি কাপড় নিয়ে বিরাট দ্বিধায় পড়ে গেছি। 

কখন যে ফ্রান্সি এসে পাশে দাঁড়িয়েছে, টের পাই নি। নীল জমিনে রুপালি সুতোর মিহি কারুকাজ দেখে তার মুখে কথা সরে না। ‘আরেব্ববাহ, শাড়ি দেখছি। তুমি পরতে জানো?’। ফ্রান্সির গলায় বেজায় কৌতূহল। কোন ফাঁকে সে চট্ জলদি তৈরি হয়ে নিয়েছে। তার বেশভূষাও বেশ ইন্টারেস্টিং। কালো স্ট্রাইপ ট্রাইজার, ফর্মাল সাদা শার্ট আর ব্যাক ব্রাশ চুলে ফ্রান্সিকে পুরো টমবয় লাগছে। ‘দেখো, বেশি সময় নিয়ো না, আমরা নিচে অপেক্ষা করছি। তাড়াতাড়ি নেমে এসো।‘ তাগাদা দিয়ে বাদামী ড্রেস স্যু মচমচিয়ে ফ্রান্সি চলে গেল। 

মিনিট পনেরো পর। শাড়ি পেঁচিয়ে জড়ভরত সেজে সিড়ির হাতল ধরে ধরে খুব সাবধানে নেমে এলাম। পেন্সিল হিলটা এই বুঝি একদিকে টশ্কে গেল। টালটামাল দৃশ্য দেখে সাথের মেয়েগুলো আমোদ পাচ্ছে। তাদের পরনে ফর্মাল মিডি স্কার্ট আর হালকা রঙের টপ। গলায় বড়জোর রঙ্গীন শাল। ছিমছাম সাজ। টাল সামলে রওনা দিলাম ওদের সাথে। কিন্তু শাড়ির কুঁচি পায়ের তলে পড়ে ঠিকই টশ্কে গেলাম। 

নেতা গোছের ফ্রান্সি এগিয়ে এল মুশকিল আসান হয়ে। ‘এ্যাই, সোজা হয়ে দাঁড়াও তো। পড়ে গিয়ে মাথা ফাটিয়ে ফেলবে আর তোমাকে কাঁধে নিয়ে ঘুরবো আমরা? ধ্যাত্ততেরি!’ গজগজ করতে করতেই জার্মান মেয়েটা পকেট থেকে সেফটিপিন বের করে ভীষন দ্রুততায় অবাধ্য শাড়ির ভাঁজগুলোকে দারুন শাসনে নিয়ে এল। এই মেয়ের জন্ম বাংলাদেশে হওয়া উচিত ছিল। শাড়ি-টিপে কি সুন্দর টিএসসি, কার্জন হল ঘুরে বেড়াতো। তা না, খামোখাই জার্মান দেশে জন্মে শার্ট-প্যান্ট চাপিয়ে শুষ্কং কাষ্ঠং টমবয় সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছে।    

৮.
কোথায় গালা ডিনার? আমাদের ছোট্ট দলটা বাদে বাকি সবাই দিনের বেলার সেই একই কাপড় পরে চলে এসেছে। পোশাকের ভাঁজে সারাদিনের স্পষ্ট ক্লান্তি। তার মাঝে নিজেকে নিদারুন বেখাপ্পা লাগছে। বার্খার কথা শুনে এমন সঙ সেজে এখন হাসির পাত্র হতে যাচ্ছি মনে হচ্ছে। 

শাড়ি নামক এই উপমহাদেশীয় বস্ত্রের জেল্লা একবার চাক্ষুষ দেখতে অনেকেই উৎসুক এগিয়ে আসছে। কোনোমতে সামনের সারির আসনে পালিয়ে বাঁচলাম। সম্মেলনগুলোতে প্রথম সারি চিরকাল ফাঁকা পড়ে থাকে। ঘুমিয়ে গেলে ধরা পড়ার ভয়ে।

ডিস্কো বাতি জ্বলে ওঠার বদলে হতাশ করে দিয়ে মোচওয়ালা এক প্রৌঢ় মঞ্চে উঠে এল। পোশাকের প্রতি লোকজনের উদাসীনতার কারন বোঝা গেল এতক্ষনে। কিসের নৃত্য সন্ধ্যা, আজকে হবে সঙ্গীত রজনী। পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ফাদো সঙ্গীত। ভদ্রলোক ছোট্ট করে গলা খাঁকরি দিয়ে কথা শুরু করলেন। ‘ফাদো মানে ভাগ্য বা পরিনতি। বয়ে চলা সময়ের পরিনতিকে এই গানে বেঁধে ফেলা হয় এক মনোটোনিক সুরের বাঁধনে...’।  ফাদো সঙ্গীতের বিশাল ইতিহাসের বনামে বোয়াল মাছের হাঁ মেলে আমিও বিশালতর এক হাই তুলে ফেললাম। 

অপ্রয়োজনীয় ইতিহাস কপচানোর পর এবার শুরু হল গান। অপেরা সঙ্গীতের স্টাইলে উঁচু তানে সুরের নামে অসুর ধরলো শক্তিশালী মোটাসোটা মাঝবয়সী গায়ক। কি গান বাবা রে। দু’কানে ভয়ংকর অত্যাচার ঠেকছে। কি ভুল করেই যে প্রথম সারিতে বসেছি। কানের পর্দা ফেটে চৌচির হবার যোগাড়। ওদিকে, গায়কের সবুজ রগ গলা থেকে কপাল অবধি চড়ে গিয়েছে। নিরুপায়ের মত এদিক ওদিক তাকাতে লাগলাম।

পাঁচ মিনিটের মাথায় আমাদের সবাইকে বিধ্বস্ত করে দিয়ে রগ ফুলানো গায়ক বড় একটা বাউ করে বিদায় নিল। নিঃশব্দে হাঁপ ছাড়লাম, ‘ফিউউহ্!’।  মঞ্চে এবার এল কালো গাউন পরা এক নারী। আধো আলোতে তার বয়স ঠাহর হয় না। গাঢ় মাশকারায় ঢাকা চোখ দু’টো আধবোজা। স্পানিশ গিটার আর তানপুরার আদলে গড়া পর্তুগীজ গিটার হাতে উঠে এল আরো দু’জন। ধীর লয়ে শুরু হল অপূর্ব সুরের রিনঝিন। না জ্যাজ, না, ব্লুজ, না ফোক। সঙ্গীতের জানাশোনা কোনো ধারাতে তাকে ফেলা গেল না। উশখুস করা এক হল লোক যেন আচমকাই শান্ত হয়ে বসলো। 

কেউ যেন সুরেলা গলায় গল্প বলে চলেছে। দেশ দেশান্তর ঘুরে আসা বোহেমিয়ানের ভ্রমন, ঘাটে ঘাটে নোঙর ফেলা নাবিকের যাত্রা, আটপৌরে মানুষের সরল গল্প। কিন্তু কাহিনীগুলো যেন দুঃখ দিয়ে গাঁথা। সম্মোহনী ভঙ্গিতে গেয়েই চলছে গায়িকা। তার কাঁধে কেউ যেন সেই সব মানুষের দুঃখের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বেদনাকে ধারন করে এমন করে গাইতে কাউকে আর দেখি নি। 

গান শেষ হল এক সময়ে। শিল্পী নিচু গলায় কি যেন বলছে। আশ্চর্য হয়ে শুনলাম, ফাদো গানের আদি শিল্পীরা কেউ ছিল পেশায় নাবিক, কেউ বা পর্যটক। গানের যে ভাষার দরকার নেই, আরেকবার স্বীকার করতেই হল। (চলবে)



Friday, December 25, 2020

পর্তুগালের অলিগলি: ২


৪.
সস্তা হোটেলের ছবি মাথায় নিয়ে এসেছিলাম। পুরু কার্পেটের মেঝে, সুউচ্চ সিলিং আর দেয়ালের ক্লাসিক পেইন্টিংগুলো দেখে উল্টো ভিমড়ি খাবার যোগাড়। হোটেল কোথায়, এ যে রাজবাড়ি। তবদা ভাঙতে না ভাঙতেই চোস্ত জার্মান জানা রিসেপশনিস্ট এসে উদয় হল। কাগজপত্র দেখেদুখে দুই মিনিটেই চাবি বুঝিয়ে দিল। চাবি তো না যেন পাথরের চাঁই। আধা কিলো ওজনের পিতলের চাবিটা হাতে নেবো নাকি পকেটে পুরবো, ভেবে না পেয়ে শেষে বিড়ালের ঘন্টার মত গলায় ঝুলিয়ে ঘর খুঁজতে রওনা দিলাম। নম্বর মিলিয়ে নব ঘোরাতেই পনেরো শতকের দরজা খুলে গেল যেন। কারুকাজ করা কাঠের পালঙ্ক, গদি আঁটা মখমলের সোফা আর বেলজিয়াম কাঁচের দেয়ালজোড়া আয়না-সব মিলিয়ে আলিশান রয়্যাল স্যুট। দেখে ইতস্তত করছি, ঠিক জায়গায় এসেছি তো?

‘হাঁ করে দেখছো কি, সরে জায়গা দাও তো আগে’। হেভি ডিউটি সুইসগিয়ার স্যুটকেসটা হাতে ফ্রান্সিসকা ঠেলেঠুলে ঘরে ঢুকে পড়লো। বুঝলাম, এই প্রাসাদ কক্ষের সেও একজন শরীক। ফ্রান্সিসকাকে আমরা ছোট করে ফ্রান্সি বলে ডাকি। লম্বা-চওড়া, নেতা গোছের ডাকাবুকো মেয়ে। ‘পর্তুগালটা একেবারে খারাপ না, কি বলো? ‘তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে নাও, ওপেনিং সেশন ধরতে হবে’। জুতো জোড়ার দু’পাটি দু’দিকে ছুড়ে মেরে খোশমেজাজে বললো ফ্রান্সি। মাথা নেড়ে সায় দিয়ে ফ্রান্সির দেখাদেখি মোজা খুলে ডানে আর বামে ক্রিকেট বলের মত পাকিয়ে উড়িয়ে দিলাম। ‘পরিপাটি জার্মান মেয়ে’র বদলে নিজের মতই আগোছালো আর ছন্নছাড়া কাউকে পেয়ে অস্বস্তি হঠিয়ে মনে মনে বেশ একটা স্বস্তি পেলাম।

এলোপাথাড়ি জামা-জুতো, টুপি-মোজার প্রবল বর্ষনে একটু আগের রয়্যাল স্যুটের বারোটা বাজাতে ঠিক পাঁচ মিনিট লাগলো আমাদের। সফেদ বিছানায় এক গড়ান দিয়ে টানটান চাদরটা কুঁচকে তারও তেরোটা বাজাতে ভুললাম না। তারপর, আধখোলা ব্যাগপ্যাক আর লন্ডভন্ড স্য্যুটকেস ডিঙ্গিয়ে বগলে ল্যাপটপ, কাঁধে পোস্টার নিয়ে দু’জন দিলাম ছুট কনফারেন্স হল বরাবর।

 
৫.
হল ঘরের মঞ্চে বিশাল ব্যানারঃ ‘লাং সায়েন্স কনফারেন্স ২০১২’। বিজ্ঞান সম্মেলনগুলোতে উচ্চবিত্ত-নিম্নবিত্ত একটা ব্যাপার আছে। সেটা প্রকট হয় চা-বিরতিতে। হোমরা চোমরা বিজ্ঞানীদের দল তখন ইটালিয়ান মাফিয়াদের মত ঘোট পাকিয়ে ঘুরবে, চুকচুক করে কফি খাবে আর পিএইচডি ছাত্র দেখলে নাক কুঁচকে আরেকদিকে হাঁটা দিবে। মাঝেমাঝে অবশ্য বাড়াবাড়ি রকমের ইন্টালেকচুয়াল এক আধটা পিএইচডি-পোস্টডক ভাব নিয়ে মাফিয়া দলে ঝুলে থাকে। অতটা ধৈর্য্য বা শৌর্য কোনোটাই না থাকায় আমচু মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছি। দলের বাকিরা যথারীতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। আবছা আলোর সারি সারি আসনের ভিড়ে তাদের ঠাহর করা মুশকিল। সুতরাং, সেই তো আবার দলছুট।
 
ঠিক এই সময়ে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এল প্রফেসর মরিশিও রোয়াস। ‘এ্যাই, কি খবর? ডঃ ইলদ্রিমের ছাত্র না তুমি?’ হকচকিয়ে গেলাম। মরিশিও রোয়াস আমেরিকার পিটসবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পালমোনারি মেডিসিনের নামকরা অধ্যাপক। পঞ্চাশ পেড়োনো অমায়িক চেহারা। মিউনিখে আমাদের রিসার্চ স্কুলে কিছুদিন আগে লেকচার দিয়ে গেছে। তখন প্রস্ন-উত্তর সেশনে সামান্য আলাপ হয়েছিল। তবুও মাফিয়াদের একজন এগিয়ে এসে হ্যালো বললে সংশয় জাগে বই কি।
 
জড়তা জড়িয়ে এগিয়ে গেলাম। নকল, দুই নম্বর আঁতেল সেজে হড়বড় করে বলে ফেললাম, ‘স্টেম সেল নিয়ে সেবার তোমার লেকচারটা খুব ভাল লেগেছিল। নাইস টু মিট ইউ এগেইন, প্রফেসর মরিশিও’। চওড়া হাসির সাথে জবাব এল, ‘আরে রাখো তো ওসব প্রসেফর-টফেসর। শুধু মরিশিওতেই চলবে। তা তোমার থিসিসের কাজ কেমন চলছে আর ক’টা ইঁদুর মারলে এ পর্যন্ত? হাহাহা...‘। এরপর কথা জমে যেতে আর সময় লাগলো না। মনে মনে ঠিক করলাম, বিজ্ঞানের কাঠখড় পুড়িয়ে একদিন যদি মাফিয়া বিজ্ঞানী বনেই যাই, তো মরিশিওর মত  ফ্রেন্ডলি মাফিয়া হতে হবে। কুটিল, গ্যাংস্টার মাফিয়া হয়ে কাজ নেই।

৬.
এস্তোরিলের সন্ধ্যাটা টুপ করে নেমে গেল। আমাদের কনফারেন্সের পর্দাও সে বেলার মত গুটিয়ে ফেলা হল। আগামীকালের সেশনের জন্যে পোস্টার টাঙিয়ে বাকিদের সাথে ডিনারে বেরিয়ে পড়লাম। এই প্রথম চোখ মেলে এস্তোরিল দেখার ফুরসত পেলাম। কিন্তু সন্ধ্যার ঘুটুঘুটে আঁধার আর টিমটিমে ল্যাম্পপোস্ট সে আশায় জল ঢেলে দিল। শুধু বোঝা গেল, লিসবনের সাথে এস্তোরিলের একশো আশি ডিগ্রি ফারাক। অভিজাত হোটেল-দালানের ভিড় রাস্তার দু’পাশে। সাঁ সাঁই চলে যাওয়া কালো কাঁচে ঢাকা গাড়িগুলোর মডেল আন্দাজ করা যায় না এমনই সব দামী স্পোর্টস কার সেগুলো।
 
সব কৃত্রিমতা ছাপিয়ে অকৃত্রিম একটা নোনা বাতাস হানা দিচ্ছে হঠাৎ হঠাৎ। জিজ্ঞেস করতে জানা গেল, সামান্য দূরেই সৈকত আছে। কোস্টা ডি এস্তোরিল। আফসোস, সেখানে যাবার সময় হবে না সামনের দুই দিন। কনফারেন্সের শিডিউল ভোর থেকে রাত। তাই সমুদ্রের ঘ্রান নিয়েই খুশি থাকতে হলো।
 
বড় রাস্তা ছেড়ে সরু গলিতে ঢুকে পড়লাম। নোনা বাতাস তবুও পিছু ছাড়ে নি। আরো যোগ হয়েছে নীড়ে ফেরা পাখিদের কিচির মিচির। গাছে গাছে কচি পাতার নূপুর। পাতার ফাঁকে এক ফালি চাঁদ উঁকি দিয়ে বোহেমিয়ান মনটা উদাস করে দিতে চাইছে খুব। অলিগলিতে না ঢুকলে বোধহয় শহর চেনা যায় না। এখানে শহর কিছুটা ‘অফ-গার্ড’ থাকে। এখানে হিসেব করে বসানো ইটকাঠের আড়ম্বর নেই, জৌলুস দেখিয়ে ভোঁ গাড়ি হাঁকানোর সুযোগ নেই। নিরিবিলির সুযোগে সন্ধ্যাটা তখন পাতার ফাঁকে চুপটি করে নেমে এসে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।  
 
যাহোক, অনেক খুঁজে এক মাঝারি দামের পিজ্জারিয়া আবিষ্কার করে হল। হরেক রকমের পিজ্জা আর সালাদ চলে আসতে সময় লাগলো না। মুহূর্তেই বুভুক্ষের দল ঝাঁপিয়ে পড়লাম। তবে জায়গাটা বড্ড অন্ধকার। আলোর ব্যাপারে এরা এত কৃপণ কেন। কি ঘরে, কি বাইরে। আর থেকে থেকে টেবিল-চেয়ারের নিচে কিসের যেন হুটোপুটির শব্দ ভেসে আসছে। বিড়াল টিড়াল হবেও বা-এই ভেবে পাত্তা দিলাম না। এদেশে এদের যথেচ্ছা ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। কিন্তু যেখানে বিড়াল, সেখানে যে ইঁদুরেরও আনাগোনা, তা কে জানতো।
 
খেয়ে দেয়ে তৃপ্তি নিয়ে ক্লান্ত পায়ে ফিরে যাচ্ছি। হঠাৎ মরিশিও চাপা উচ্ছ্বাসে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম। সে বরাবরই আমাদের দলে মিশে ছিল। মরিশিওর মেলে ধরা মুঠো ফোনের অস্পষ্ট ছবিতে একটু আগের হুটোপুটি রহস্য পরিষ্কার হল। ছোট্ট কিন্তু গাট্টাগোট্টা এক ইঁদুর মশাই মুখে কামড়ে আর হাতে টেনে পাশের টেবিল থেকে রসালো এক টুকরো পিজ্জা সরাতে ব্যস্ত। অল্প আলোতে তার গোলাপি হাত দু’টো মেমপুতুলের হাত বলে ভুল হতে চায়। আর চোখ যেন কালো মুক্তার পুঁতি বসানো। সন্ধ্যা তারার মত ঝিঁকিয়ে উঠছে। ছবি তোলায় ভড়কে গিয়ে বাঁকাচোরা একটা হাসিও দিয়েছি দেখছি। ভীষন কিউট পিজ্জা চোরের রূপে সবাই একযোগে মাখনের মত গলে গেলাম। গলার সহজ কারনও আছে। দলের দশ জনের নয় জনই যে মেয়ে। দুষ্ট প্রফেসর মরিশিও বেশ দেখেশুনেই দলে ভিড়েছে। (চলবে)

Wednesday, December 16, 2020

(A not so serious) Letter of Interest


(Back in 2016, I wrote this application (!) on behalf of my son to get him a daycare place. Things you do while in Germany.)

Dear everyone,

Hallo, I am a little angel named Tafseer Ahmed (see me in photo below). I came down to the planet earth on 9th June, 2015. Life among humans is going pretty good since then. Mama queen and papa king call me their prince charming. 

Do you know my parents? My papa is Shamsuddin Ahmed and my mama is Rim Sabrina Jahan Sarker. Her name is so long that sometimes I forget it.. haha. Papa works as an engineer at funny company called Freescale where he works all day and makes sensors for cars (don't ask me more :S). So, I stay with mama at home and I love it. My mama completed her PhD on lungs disease at LMU in August, 2015 when I was just 3 months old! You won't believe how I helped her studies by being such a nice and quiet baby. 

Now she wants do more science and looks for a new job. I am very very worried thinking who will be with me if all go to work? I need to someone to play with. I heard that you have a very beautiful place for kids like me where I can make new friends and play and laugh and sing and dance all day long. It sounds like a fairytale to me. Will you please let me join you? I promise you will also like me because I am cheeky monkey to be around!

Please let me know if you can make some space for me. I can't wait to play with you. Lots of love and a big hug and kiss and lots of sunshine.

Yours lovable,

Tafseer the tiny tot

P.S. my mama (A1) can speak a little German and papa (B1) can speak a lot more but none writes good German. My plan is to teach them the language once I start to learn from you . Isn't that a great idea? Yes, that's me!

----

Munich, Germany

2016

পর্তুগালের অলিগলি:৫

১১. ‘এ্যাঁ, হ্যালো, হ্যালো...’। অল্প বয়সী ট্যুর গাইড ছেলেটা মাইক্রোফোন হাতে নড়েচড়ে বসেছে। এতক্ষনে তার অস্তিত্ব জানা গেল। ‘আমরা প্রায় চলে এসে...